কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন বাংলাদেশ: Steadfast, Pathao, RedX, Carry Bee ও Paperfly-তে সরাসরি অর্ডার পাঠানোর সহজ গাইড
Shopify স্টোরের অর্ডার Steadfast, Pathao, RedX, Carry Bee ও Paperfly কুরিয়ারে সরাসরি পাঠান। Neo COD Form & Upsell দিয়ে কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনের পুরো প্রক্রিয়া জানুন।
বাংলাদেশে যারা Shopify দিয়ে অনলাইন ব্যবসা করছেন, তাদের প্রায় সবার একটা কমন অভিজ্ঞতা আছে। দিনে ৩০টা, ৫০টা বা ১০০টা অর্ডার আসে। তারপর শুরু হয় আসল ঝামেলা। একটা ট্যাবে Shopify অ্যাডমিন খোলা, আরেকটা ট্যাবে কুরিয়ারের মার্চেন্ট প্যানেল। কাস্টমারের নাম কপি, ফোন নম্বর কপি, ঠিকানা কপি, COD অ্যামাউন্ট টাইপ। তারপর পরের অর্ডার। আবার একই কাজ।
এভাবে কাজ করতে গেলে সময় তো যায়ই, সাথে ভুলও হয়। একটা ডিজিট ভুল হলে পার্সেল ভুল জায়গায় যায়, ডেলিভারি ম্যান কাস্টমারকে ফোনে পায় না, আর শেষে পার্সেল রিটার্ন আসে। রিটার্ন মানেই ডেলিভারি চার্জ আর রিটার্ন চার্জ দুটোই আপনার পকেট থেকে।
এই সমস্যার সমাধান হলো Shopify কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন। আর আজকের লেখায় আমি দেখাবো কীভাবে Neo COD Form & Upsell অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি আপনার Shopify অর্ডার সরাসরি বাংলাদেশের জনপ্রিয় কুরিয়ারে অ্যাসাইন করতে পারবেন, কোনো কপি পেস্ট ছাড়াই।
কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন আসলে কী?
সহজ ভাষায় বললে, কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন মানে আপনার Shopify স্টোর আর কুরিয়ার কোম্পানির সিস্টেমের মধ্যে একটা সরাসরি সংযোগ তৈরি করা। এই সংযোগ তৈরি হয় কুরিয়ারের দেওয়া API ক্রেডেনশিয়াল দিয়ে।
একবার সংযোগ হয়ে গেলে অর্ডারের সব তথ্য, যেমন কাস্টমারের নাম, ফোন নম্বর, ডেলিভারি ঠিকানা, আর কত টাকা ক্যাশ কালেক্ট করতে হবে, সব অটোমেটিকভাবে কুরিয়ারের কাছে চলে যায়। আপনাকে আর কুরিয়ারের প্যানেলে গিয়ে আলাদা করে পার্সেল এন্ট্রি দিতে হয় না।
কেন বাংলাদেশি Shopify মার্চেন্টদের কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন দরকার?
বাংলাদেশের ই-কমার্সের বড় অংশ এখনো ক্যাশ অন ডেলিভারি নির্ভর। মানে প্রতিটা অর্ডারের সাথে টাকার হিসাব জড়িয়ে আছে। তাই এখানে ভুলের সুযোগ যত কম রাখা যায়, তত ভালো। ইন্টিগ্রেশনের কয়েকটা বাস্তব সুবিধা:
সময় বাঁচে। যে কাজে আগে প্রতি অর্ডারে দুই তিন মিনিট লাগতো, সেটা এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। দিনে ৫০টা অর্ডার হলে হিসাব করে দেখুন কত ঘণ্টা বাঁচছে।
ডেটা এন্ট্রির ভুল কমে। কাস্টমার যে তথ্য অর্ডার ফর্মে দিয়েছেন, হুবহু সেটাই কুরিয়ারে যায়। টাইপিং মিস্টেকের জায়গা থাকে না।
COD অ্যামাউন্ট সঠিক থাকে। আপসেল বা কোয়ান্টিটি অফার থাকলে অর্ডারের মোট টাকা বদলে যায়। হাতে লিখলে এখানে গড়বড় হওয়া খুব স্বাভাবিক। ইন্টিগ্রেশনে সঠিক অ্যামাউন্টটাই কুরিয়ারে যায়।
টিম ছোট রেখেও বেশি অর্ডার সামলানো যায়। আলাদা করে একজন শুধু কুরিয়ার এন্ট্রির জন্য রাখার দরকার পড়ে না।
Neo COD Form & Upsell কোন কোন কুরিয়ার সাপোর্ট করে?
Neo COD Form & Upsell বর্তমানে বাংলাদেশের ৫টি কুরিয়ার প্ল্যাটফর্মের সাথে ইন্টিগ্রেশন সাপোর্ট করে:
- Steadfast Courier
- Pathao Courier
- RedX
- Carry Bee
- Paperfly
দেশের বেশিরভাগ অনলাইন ব্যবসায়ী এই পাঁচটার মধ্যে অন্তত একটা বা দুইটা কুরিয়ার ব্যবহার করেন। তাই আপনি যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, খুব সম্ভবত সেটা এই লিস্টে আছে।
একটা বিষয় মাথায় রাখবেন। শুধু অ্যাপ ইনস্টল করলেই অর্ডার কুরিয়ারে চলে যাবে না। প্রথমে আপনাকে যে কুরিয়ার ব্যবহার করতে চান সেটার সাথে অ্যাপটিকে কানেক্ট বা ইন্টিগ্রেট করতে হবে। ইন্টিগ্রেশন শেষ হলেই কেবল অর্ডার অ্যাসাইন করার অপশন কাজ করবে।
ইন্টিগ্রেশনের আগে যা যা প্রস্তুত রাখবেন
কাজ শুরুর আগে দুইটা জিনিস হাতের কাছে রাখুন।
১. কুরিয়ারের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট। যে কুরিয়ারে পার্সেল পাঠাবেন, সেখানে আপনার একটা অ্যাক্টিভ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে আগে কুরিয়ারের ওয়েবসাইট বা মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে রেজিস্ট্রেশন করে নিন।
২. API ক্রেডেনশিয়াল। প্রতিটা কুরিয়ার নিজের মতো করে API অ্যাক্সেস দেয়। সাধারণত যা লাগে:
- Steadfast: API Key এবং Secret Key। এগুলো Steadfast মার্চেন্ট প্যানেলের API সেকশন থেকে পাওয়া যায়।
- Pathao: Client ID, Client Secret, আপনার Pathao মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড, আর যে স্টোর থেকে পিকআপ হবে সেটার তথ্য। Pathao Merchant প্যানেলের Developer বা API অংশে ক্রেডেনশিয়াল পাবেন।
- RedX: API Access Token আর আপনার পিকআপ স্টোরের তথ্য। RedX মার্চেন্ট প্যানেল থেকে বা তাদের সাপোর্ট টিমের কাছ থেকে টোকেন সংগ্রহ করা যায়।
- Carry Bee: মার্চেন্ট API ক্রেডেনশিয়াল। Carry Bee প্রতিটা মার্চেন্টকে আলাদা KAM (Key Account Manager) সাপোর্ট দেয়, তাই আপনার KAM-এর সাথে যোগাযোগ করলে সহজেই API অ্যাক্সেস পেয়ে যাবেন।
- Paperfly: মার্চেন্ট API ক্রেডেনশিয়াল। Paperfly-এর মার্চেন্ট সাপোর্ট বা অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারের কাছে API অ্যাক্সেস চাইলে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে দেবে।
একটা ছোট পরামর্শ: API Key বা Secret Key কারো সাথে শেয়ার করবেন না, ফেসবুক গ্রুপে স্ক্রিনশটও দেবেন না। এগুলো দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে পার্সেল তৈরি করা যায়।
ধাপ ১: Neo COD Form & Upsell-এ কুরিয়ার কানেক্ট করুন
এবার আসল কাজ। কুরিয়ার কানেক্ট করার প্রক্রিয়া বেশ সোজা।
১. প্রথমে আপনার Shopify স্টোরে Neo COD Form & Upsell ইনস্টল করুন। ফ্রি প্ল্যান দিয়েও শুরু করতে পারবেন।
২. Shopify অ্যাডমিন থেকে অ্যাপটি ওপেন করুন এবং কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন সেকশনে যান।
৩. সেখানে পাঁচটি কুরিয়ারের লিস্ট দেখতে পাবেন। যেটা ব্যবহার করতে চান, সেটা সিলেক্ট করুন।
৪. কুরিয়ার থেকে পাওয়া API ক্রেডেনশিয়ালগুলো নির্দিষ্ট ঘরে বসিয়ে দিন। কপি পেস্ট করার সময় সামনে পেছনে বাড়তি স্পেস যেন না থাকে, এটা খেয়াল রাখবেন। অনেক সময় শুধু একটা স্পেসের কারণে কানেকশন ফেইল করে।
৫. সেভ বা কানেক্ট বাটনে ক্লিক করুন। তথ্য ঠিক থাকলে কুরিয়ারটি কানেক্টেড হিসেবে দেখাবে।
চাইলে একাধিক কুরিয়ারও কানেক্ট করে রাখতে পারেন। অনেক মার্চেন্ট ঢাকার ভেতরের অর্ডারের জন্য এক কুরিয়ার আর ঢাকার বাইরের অর্ডারের জন্য আরেক কুরিয়ার ব্যবহার করেন। সব কটা কানেক্ট থাকলে যখন যেটা দরকার সেটায় পাঠাতে পারবেন।
ধাপ ২: অর্ডার কুরিয়ারে অ্যাসাইন করুন
কুরিয়ার কানেক্ট হয়ে গেলে এবার অর্ডার পাঠানোর পালা।
১. অ্যাপের অর্ডার লিস্টে যান। এখানে COD ফর্ম থেকে আসা অর্ডারগুলো দেখতে পাবেন।
২. যে অর্ডারটি পাঠাতে চান সেটা ওপেন করুন বা সিলেক্ট করুন।
৩. কুরিয়ারে অ্যাসাইন করার অপশনে ক্লিক করুন।
৪. কানেক্ট করা কুরিয়ারগুলো থেকে একটি বেছে নিন।
৫. পাঠানোর আগে একবার দেখে নিন কাস্টমারের নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা আর COD অ্যামাউন্ট ঠিক আছে কিনা। কোনো কুরিয়ার শহর বা এরিয়া সিলেক্ট করতে বললে সেটাও ঠিকমতো দিন।
৬. কনফার্ম করুন। অর্ডারটি সরাসরি কুরিয়ারের সিস্টেমে পার্সেল হিসেবে তৈরি হয়ে যাবে এবং আপনি একটি কনসাইনমেন্ট বা ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন।
ব্যস, কাজ শেষ। কুরিয়ারের প্যানেলে লগইন করলে দেখবেন পার্সেলটি সেখানে চলে গেছে এবং পিকআপের জন্য অপেক্ষা করছে।
কোন কুরিয়ার কখন বেছে নেবেন?
এখানে কোনো একটাই সঠিক উত্তর নেই। আপনার ব্যবসার ধরন, কোন এলাকায় বেশি অর্ডার যায়, পণ্য কতটা ভঙ্গুর, আর কোন কুরিয়ারের সাথে আপনার রেট ভালো, এসবের ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু সাধারণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।
প্রথম দিকে একটা কুরিয়ার দিয়েই শুরু করুন। কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে দেখুন ডেলিভারি সাকসেস রেট কেমন, পেমেন্ট কত দিনে আসে, আর রিটার্ন কেমন হ্যান্ডেল করে। তারপর দরকার হলে দ্বিতীয় কুরিয়ার যোগ করুন।
অনেকে লক্ষ্য করেন, কোনো কুরিয়ার ঢাকার ভেতরে খুব দ্রুত, আবার কোনোটা নির্দিষ্ট কিছু জেলায় ভালো কভারেজ দেয়। নিজের অর্ডারের ডেটা দেখে সিদ্ধান্ত নিন। যেহেতু Neo COD Form & Upsell-এ পাঁচটা কুরিয়ারই সাপোর্ট করে, তাই কুরিয়ার বদলাতে চাইলে আপনাকে নতুন কোনো অ্যাপ খুঁজতে হবে না।
রিটার্ন কমাতে কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনের সাথে যা করবেন
কুরিয়ারে অর্ডার পাঠানো সহজ হলো, কিন্তু ভুয়া বা অনিশ্চিত অর্ডার পাঠালে লস তো থেকেই যায়। তাই কুরিয়ারে অ্যাসাইন করার আগেই কিছু জিনিস ঠিক করে রাখা ভালো।
OTP ভেরিফিকেশন চালু রাখুন। Neo COD-তে অর্ডার কনফার্মের সময় কাস্টমারের ফোনে OTP পাঠানোর ব্যবস্থা আছে। এতে ভুল নম্বর বা মজা করে দেওয়া অর্ডার অনেকটাই কমে যায়। সঠিক নম্বর মানে ডেলিভারি ম্যানও কাস্টমারকে ফোনে পাবেন।
ফ্রড কন্ট্রোল ব্যবহার করুন। একই নম্বর বা IP থেকে বারবার ভুয়া অর্ডার আসলে সেগুলো ব্লক করতে পারবেন। একজন কাস্টমার নির্দিষ্ট সময়ে কয়টা অর্ডার দিতে পারবে সেটাও সীমা করে দেওয়া যায়।
ঢাকার ভেতরে ও বাইরে আলাদা শিপিং রেট সেট করুন। অ্যাপের শিপিং রেট সেকশনে প্রদেশ বা শহর অনুযায়ী আলাদা চার্জ সেট করা যায়। এতে কাস্টমার শুরুতেই সঠিক ডেলিভারি চার্জ দেখে অর্ডার করেন, পরে ডেলিভারির সময় টাকা নিয়ে ঝামেলা হয় না।
কাস্টমারকে শিপিং কনফার্মেশন পাঠান। পার্সেল কুরিয়ারে যাওয়ার পর কাস্টমারকে SMS বা WhatsApp-এ জানিয়ে দিলে তিনি ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত থাকেন। অ্যাপের কাস্টমার মেসেজিং ফিচার দিয়ে এটা করা যায়।
ফর্মে ঠিকানার ঘর পরিষ্কার রাখুন। COD ফর্মে এলাকা, থানা বা শহরের জন্য আলাদা ফিল্ড রাখলে কাস্টমার গুছিয়ে ঠিকানা দেন। কুরিয়ারও সহজে পার্সেল সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারে।
সাধারণ কিছু সমস্যা ও সমাধান
কুরিয়ার কানেক্ট হচ্ছে না। প্রথমে দেখুন API ক্রেডেনশিয়াল ঠিকমতো কপি হয়েছে কিনা, বাড়তি স্পেস আছে কিনা। তারপর নিশ্চিত হোন কুরিয়ার আপনার অ্যাকাউন্টে API অ্যাক্সেস চালু করেছে। অনেক কুরিয়ারে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলেও API আলাদাভাবে অ্যাক্টিভ করতে হয়।
অর্ডার অ্যাসাইন করার সময় এরর আসছে। সাধারণত কাস্টমারের ফোন নম্বর ভুল ফরম্যাটে থাকলে বা ঠিকানা খুব অসম্পূর্ণ হলে কুরিয়ার পার্সেল নিতে চায় না। অর্ডারের তথ্য একবার চেক করে আবার চেষ্টা করুন।
Pathao-তে এরিয়া খুঁজে পাচ্ছি না। Pathao শহর, জোন আর এরিয়া ধরে কাজ করে। কাস্টমারের দেওয়া ঠিকানার সাথে সবচেয়ে কাছাকাছি এরিয়াটা বেছে নিন।
এর বাইরে কোনো সমস্যা হলে Neo Apps-এর সাপোর্ট টিমের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। টিমটা ঢাকা থেকেই কাজ করে, তাই বাংলাদেশি কুরিয়ার নিয়ে তাদের বোঝাপড়া ভালো।
শুধু কুরিয়ার না, একই অ্যাপে COD ফর্ম, আপসেল আর পিক্সেল
অনেক মার্চেন্ট কুরিয়ারের জন্য একটা অ্যাপ, COD ফর্মের জন্য আরেকটা, আপসেলের জন্য আরেকটা, আর পিক্সেল ট্র্যাকিংয়ের জন্য আলাদা আরেকটা অ্যাপ ইনস্টল করে রাখেন। এতে মাসিক খরচ বাড়ে, স্টোর স্লো হয়, আর একটার সাথে আরেকটার গোলমাল লাগলে কোনটার দোষ সেটা খুঁজে বের করাই মুশকিল হয়ে যায়।
Neo COD Form & Upsell-এর সুবিধা হলো, অর্ডার আসা থেকে শুরু করে কুরিয়ারে পাঠানো পর্যন্ত প্রায় সব কাজ এক অ্যাপেই হয়ে যায়। চলুন দেখি কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনের বাইরে আর কী কী পাচ্ছেন।
১. সহজ ও দ্রুত COD অর্ডার ফর্ম
বাংলাদেশের বেশিরভাগ কাস্টমার মোবাইল থেকে অর্ডার করেন এবং লম্বা চেকআউট পেজ দেখলে অনেকেই মাঝপথে ছেড়ে দেন। Neo COD দিয়ে প্রোডাক্ট পেজেই একটা ছোট ক্যাশ অন ডেলিভারি ফর্ম বসিয়ে দিতে পারবেন। কাস্টমার নাম, ফোন নম্বর আর ঠিকানা দিয়ে এক ক্লিকেই অর্ডার কনফার্ম করতে পারেন।
ফর্মটা পুরোপুরি নিজের মতো সাজাতে পারবেন। ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ এডিটর দিয়ে ফিল্ড আগে পিছে করা যায়, দরকার মতো নতুন ফিল্ড যোগ করা যায়, আর ব্র্যান্ডের সাথে মিলিয়ে রং ও ফন্ট বদলানো যায়। ফর্মটা পপআপ হিসেবে দেখাবেন নাকি পেজের মধ্যেই বসিয়ে রাখবেন, সেটাও আপনার হাতে। চাইলে WhatsApp বাটন আর কাস্টম থ্যাংক ইউ পেজও রাখতে পারবেন। এর জন্য থিমের কোডে হাত দিতে হয় না।
সবচেয়ে বড় কথা, এই ফর্ম থেকে যে অর্ডার আসে, সেটাই পরে সরাসরি কুরিয়ারে অ্যাসাইন করবেন। মানে ফর্মে ঠিকানা যত গুছিয়ে নেবেন, কুরিয়ারে পাঠানোও তত নির্ভুল হবে।
২. আপসেল, ডাউনসেল আর কোয়ান্টিটি অফার
নতুন কাস্টমার আনার চেয়ে যে কাস্টমার অলরেডি কিনছেন, তার অর্ডারের সাইজ একটু বাড়ানো অনেক সহজ। Neo COD-তে এর জন্য কয়েকটা কাজের অপশন আছে।
কোয়ান্টিটি ডিসকাউন্ট: “২টা নিলে ১০% ছাড়, ৩টা নিলে ১৫% ছাড়” এই ধরনের অফার সরাসরি ফর্মেই দেখানো যায়।
ওয়ান টিক আপসেল: ফর্মের মধ্যে ছোট একটা চেকবক্স, যেমন “মাত্র ১৫০ টাকায় একটা কভার যোগ করুন”। কাস্টমার শুধু টিক দিলেই প্রোডাক্টটা অর্ডারে যোগ হয়ে যায়।
প্রি পারচেজ ও পোস্ট পারচেজ আপসেল: অর্ডার কনফার্মের ঠিক আগে বা পরে একটা বিশেষ অফার দেখানো যায়। কাস্টমার তখন কেনার মুডে থাকেন, তাই এই অফারগুলো ভালো কাজ করে।
ডাউনসেল: কাস্টমার ফর্ম বন্ধ করে চলে যেতে চাইলে একটা ছোট ডিসকাউন্ট দেখিয়ে তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করা যায়।
আর এখানেই কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনের সাথে একটা সুন্দর মিল আছে। আপসেল যোগ হলে অর্ডারের মোট টাকা বদলে যায়। হাতে কুরিয়ার এন্ট্রি দিলে এই বদলানো অ্যামাউন্ট লিখতে ভুল হওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু Neo COD থেকে সরাসরি অ্যাসাইন করলে আপসেলসহ সঠিক COD অ্যামাউন্টটাই কুরিয়ারে যায়।
৩. পিক্সেল ট্র্যাকিং
ফেসবুক বা টিকটকে বিজ্ঞাপন দিয়ে যারা সেল করেন, তারা জানেন পিক্সেল ঠিকমতো কাজ না করলে কী হয়। বিজ্ঞাপনের অ্যালগরিদম বুঝতে পারে না কারা আসলে কিনছে, ফলে বাজেট খরচ হয় কিন্তু সঠিক কাস্টমারের কাছে অ্যাড পৌঁছায় না। অনেক COD ফর্মে সমস্যাটা হলো, অর্ডার হয় Shopify চেকআউটের বাইরে, তাই পারচেজ ইভেন্ট ঠিকমতো ফায়ার হয় না।
Neo COD-তে বিল্ট ইন পিক্সেল ট্র্যাকিং আছে, যা Meta (Facebook), Google Analytics 4, Google Ads, TikTok, Snapchat, Pinterest আর X সাপোর্ট করে। Meta-এর জন্য পিক্সেলের পাশাপাশি Conversions API (CAPI) সেট করা যায়, ফলে ব্রাউজারে অ্যাড ব্লকার থাকলেও ইভেন্ট হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। চাইলে একাধিক পিক্সেলও একসাথে যোগ করতে পারবেন।
সঠিক ডেটা মানে আপনার বিজ্ঞাপন সঠিক মানুষের কাছে যাবে, আর প্রতিটা অর্ডারের খরচ কমবে।
সব মিলিয়ে পুরো ফ্লো কেমন দাঁড়ায়
বিজ্ঞাপন দেখে কাস্টমার আপনার স্টোরে আসলেন। পিক্সেল তার প্রতিটা অ্যাকশন ট্র্যাক করছে। প্রোডাক্ট পেজে COD ফর্ম দেখে এক ক্লিকে অর্ডার দিলেন, সাথে একটা আপসেলও নিলেন। OTP দিয়ে ফোন নম্বর ভেরিফাই হলো। তারপর আপনি অ্যাপ থেকেই অর্ডারটা Steadfast, Pathao, RedX, Carry Bee বা Paperfly-তে অ্যাসাইন করে দিলেন, আর কাস্টমার পেলেন শিপিং কনফার্মেশন মেসেজ।
পুরো প্রক্রিয়াটা একটা অ্যাপের ভেতরেই। আর ফ্রি প্ল্যানেই মাসে ১০০টা অর্ডার পর্যন্ত COD ফর্ম, মাল্টি পিক্সেল আর আপসেল ফিচারগুলো ব্যবহার করতে পারবেন, তাই শুরু করতে কোনো খরচ নেই।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনের পাশাপাশি কি COD ফর্ম, আপসেল আর পিক্সেলও একই অ্যাপে পাবো? হ্যাঁ। Neo COD Form & Upsell-এ COD অর্ডার ফর্ম, আপসেল ও ডাউনসেল, কোয়ান্টিটি অফার, Meta, TikTok, GA4 সহ বিভিন্ন পিক্সেল ট্র্যাকিং, OTP ভেরিফিকেশন আর কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন সব একসাথে আছে। আলাদা আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করার দরকার নেই।
Shopify-তে কি সরাসরি বাংলাদেশি কুরিয়ার কানেক্ট করা যায়? Shopify নিজে থেকে Steadfast, Pathao বা RedX-এর মতো লোকাল কুরিয়ার সাপোর্ট করে না। এজন্য একটা অ্যাপ লাগে। Neo COD Form & Upsell এই কাজটাই করে দেয়।
একসাথে একাধিক কুরিয়ার ব্যবহার করা যাবে? হ্যাঁ। পাঁচটা কুরিয়ারের যেকোনোটা বা সবগুলোই কানেক্ট করে রাখতে পারবেন এবং প্রতিটা অর্ডার পাঠানোর সময় কুরিয়ার বেছে নিতে পারবেন।
কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনের জন্য কি আলাদা কোডিং জানতে হবে? না। শুধু কুরিয়ার থেকে পাওয়া API তথ্য অ্যাপে বসিয়ে দিলেই হয়। থিম কোডে হাত দেওয়ার দরকার নেই।
API ক্রেডেনশিয়াল কোথায় পাবো? প্রতিটা কুরিয়ারের মার্চেন্ট প্যানেলে API বা Developer অপশন থাকে। খুঁজে না পেলে কুরিয়ারের মার্চেন্ট সাপোর্ট বা আপনার অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারকে বললেই তারা দিয়ে দেবে।
কুরিয়ারের ডেলিভারি চার্জ কি অ্যাপ নির্ধারণ করে? না। ডেলিভারি চার্জ আর পেমেন্ট সাইকেল আপনার আর কুরিয়ার কোম্পানির মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী হয়। অ্যাপ শুধু অর্ডারের তথ্য কুরিয়ারে পৌঁছে দেয়।
শেষ কথা
ব্যবসা যখন ছোট থাকে, তখন হাতে হাতে কুরিয়ার এন্ট্রি দেওয়া চলে। কিন্তু অর্ডার বাড়তে থাকলে এই কাজটাই সবচেয়ে বেশি সময় খায় আর সবচেয়ে বেশি ভুলের জন্ম দেয়। সেই সময়টা আপনি মার্কেটিং, নতুন প্রোডাক্ট খোঁজা বা কাস্টমারের সাথে কথা বলায় দিতে পারতেন।
Shopify কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন সেট করতে আধা ঘণ্টার বেশি লাগে না, কিন্তু প্রতিদিন তার সুফল পাবেন। আর একই অ্যাপে COD ফর্ম, আপসেল, OTP ভেরিফিকেশন, ফ্রড কন্ট্রোল আর পিক্সেল ট্র্যাকিং থাকায় অর্ডার আসা থেকে শুরু করে কুরিয়ারে পাঠানো পর্যন্ত পুরো কাজটা এক জায়গা থেকেই সামলাতে পারবেন।
আজই Neo COD Form & Upsell ইনস্টল করুন, আপনার পছন্দের কুরিয়ার কানেক্ট করুন, আর কপি পেস্টের দিনগুলোকে বিদায় জানান।